নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ২ নম্বর নদনা ইউনিয়নের হাটগাঁও গ্রামের ইসলাম পাটোয়ারী বাড়ির আব্দুল হকের পুত্র মিজানুর রহমান কর্তৃক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবাস থেকে মিথ্যা তথ্য ও প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন এলাকাবাসী।
সম্প্রতি ফেসবুকে মসজিদ, কবরস্থান ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা মিজানুর রহমানের এহেন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মানববন্ধনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে শামসুল আলম রিপন বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় মিজানুর রহমান বাড়ির বিষয় নিয়ে যে তথ্য ছড়িয়েছেন তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। মিজানুর রহমানের ভগ্নিপতি জানান, মূলত তিনি নিজেই বাড়ির যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়াল নির্মাণ করেছেন এবং কবরস্থান বা পুকুর লিজের কোনো টাকাই আত্মসাৎ করা হয়নি।
বাড়ির প্রতিবেশী মোতালেব বলেন, মিজানুর রহমান সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য তথ্য অনলাইনে ছড়াচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি সোনাইমুড়ী থানা প্রশাসনের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
মসজিদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মহিবুল্লাহ বলেন, "এরকম কোনো ঘটনাই ঘটেনি। গত ২০ বছর যাবত আমি এই মসজিদে খেদমত করছি, এ ধরনের কোনো অনিয়মের কথা শুনিনি।" ইমাম হাফেজ ইদ্রিস আলী বলেন, মিজানুর রহমান সোশ্যাল মিডিয়ায় যে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছেন তা কবিরা গুনাহ। তার উচিত তওবা করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন আহসান উল্যা চেয়ারম্যানের পুত্র মাহফুজুর রহমান সুমন
এছাড়া, সোনাইমুড়ী উপজেলার বাংলাবাজারের স্বনামধন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান 'মেসার্স বাহার ট্রেডার্স'-এর মালিক এবং অত্র এলাকার মসজিদের সভাপতি নুরে আজম আলমগীর বাহারের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তার ছোট ভাই কামরুজ্জামান। তিনি জানান, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিজানুর রহমানের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে এলাকাবাসী একাধিকবার বৈঠকে বসে সমাধানের চেষ্টা করলেও তিনি কোনো সমাধান মানেননি। এ নিয়ে ইতিপূর্বেও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সোনাইমুড়ী থানায় একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মিজানুর রহমানের স্ত্রী আমেনা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।