০২:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
Noakhali edition

নোয়াখালীতে রিকশা চালককে পিটিয়ে হ*ত্যা

নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে মাদক বিক্রিকে কেন্দ্র করে হামলায় ফয়েজ (৩৭) নামে এক মাদক কারবারির মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) দুপুর ১২টায় নিহত ফয়েজের বাবা জামাল বাদী হয়ে সোনাইমুড়ি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আজিজ উল্যা (৩৫) ও কিরনকে (২৭) গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলায় ১০ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। এছাড়া আরও ১০-১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার নদনা ইউনিয়নের উত্তর শাকতলা গ্রামের জব্বর ডিলার বাড়ি এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সিরাজ মিয়া জানান, উত্তর শাকতলা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে ফয়েজ, রকি, সাগর, জামাল, সবুজ, রাসেল, হারুন, আবুল হোসেন ও আলা আমিনের নেতৃত্বে মাদকের কারবার চলছিল। গত দু-তিনদিন ধরে আল আমিনের সঙ্গে ফয়েজের মাদক বিক্রি নিয়ে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এরপর স্থানীয় কয়েকজন তরুণ ওই এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবনের বিরুদ্ধে পাহারার ব্যবস্থা করেন। এতে একদিন সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা বন্ধ ছিল।

তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে রকি (২৮), সাগর (২৬), জামাল (৩২), ওসমান (২৭) সবুজ (৩১), রাসেল (২৫) ও আল আমিনসহ (২২) কয়েকজন চিহ্নিত মাদক কারবারি নুরু ডাক্তার বাড়ির পুকুর পাড় সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় আল আমিনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তার ওপর হামলা চালায়। হামলায় ফয়েজকে পেছন থেকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়। মাথায় গুরুতর আঘাত লাগলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। পরে সবাই মৃত্যু নিশ্চিত করে ফয়েজকে ঘরের পাশে রেখে চলে যান। এরপর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সোনাইমুড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বাবা জামাল বলেন, আমার আর কিছু বলার নেই। আমি আমার ছেলেকে আল্লাহর কাছে সোপর্দ করলাম। আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে আল আমিনসহ একটি চিহ্নিত মাদক কারবারিরা একত্রিত হয়ে হত্যা করেছে।

সোনাইমুড়ি থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, একটি হত্যা মামলা হয়েছে। দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদেরকে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। তবে, তদন্তের স্বার্থে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

জনপ্রিয়

নোয়াখালীতে আ.লীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষ: গ্রেপ্তার ২৫, ওসি ক্লোজড নোয়াখালী প্রতিনিধি নোয়াখালীর সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগ-ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ফের ২৫ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৭ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়ালীর পুলিশ সুপার (এসপি) টি, এম, মোশাররফ হোসেন। এর আগে, শনিবার দিবাগত রাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে, সদর উপজেলার নোয়ান্নই ও কালাদরাপ ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে। তবে পুলিশ প্রশাসনের দাবি, এটি নিয়মিত প্রশাসনিক বদলির অংশ। একই আদেশে ফেনীর সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.কামরুল ইসলামকে সুধারাম মডেল থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সুধারাম থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শ্রীরাম ভট্টাচার্যকে হাতিয়া থানার ওসি (তদন্ত) হিসেবে এবং হাতিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইদ্রিসুর রহমানকে সুধারাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে বদলি করা হয়েছে। নোয়ালীর পুলিশ সুপার (এসপি) টি, এম, মোশাররফ হোসেন বলেন, সুধারাম মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে

নোয়াখালীতে রিকশা চালককে পিটিয়ে হ*ত্যা

Noakhali edition

নোয়াখালীতে রিকশা চালককে পিটিয়ে হ*ত্যা

প্রকাশের সময় : ০৬:১৮:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে মাদক বিক্রিকে কেন্দ্র করে হামলায় ফয়েজ (৩৭) নামে এক মাদক কারবারির মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) দুপুর ১২টায় নিহত ফয়েজের বাবা জামাল বাদী হয়ে সোনাইমুড়ি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আজিজ উল্যা (৩৫) ও কিরনকে (২৭) গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলায় ১০ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। এছাড়া আরও ১০-১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার নদনা ইউনিয়নের উত্তর শাকতলা গ্রামের জব্বর ডিলার বাড়ি এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সিরাজ মিয়া জানান, উত্তর শাকতলা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে ফয়েজ, রকি, সাগর, জামাল, সবুজ, রাসেল, হারুন, আবুল হোসেন ও আলা আমিনের নেতৃত্বে মাদকের কারবার চলছিল। গত দু-তিনদিন ধরে আল আমিনের সঙ্গে ফয়েজের মাদক বিক্রি নিয়ে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এরপর স্থানীয় কয়েকজন তরুণ ওই এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবনের বিরুদ্ধে পাহারার ব্যবস্থা করেন। এতে একদিন সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা বন্ধ ছিল।

তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে রকি (২৮), সাগর (২৬), জামাল (৩২), ওসমান (২৭) সবুজ (৩১), রাসেল (২৫) ও আল আমিনসহ (২২) কয়েকজন চিহ্নিত মাদক কারবারি নুরু ডাক্তার বাড়ির পুকুর পাড় সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় আল আমিনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তার ওপর হামলা চালায়। হামলায় ফয়েজকে পেছন থেকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়। মাথায় গুরুতর আঘাত লাগলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। পরে সবাই মৃত্যু নিশ্চিত করে ফয়েজকে ঘরের পাশে রেখে চলে যান। এরপর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সোনাইমুড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বাবা জামাল বলেন, আমার আর কিছু বলার নেই। আমি আমার ছেলেকে আল্লাহর কাছে সোপর্দ করলাম। আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে আল আমিনসহ একটি চিহ্নিত মাদক কারবারিরা একত্রিত হয়ে হত্যা করেছে।

সোনাইমুড়ি থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, একটি হত্যা মামলা হয়েছে। দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদেরকে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। তবে, তদন্তের স্বার্থে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।