০৫:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
Noakhali edition

হাতিয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কিশোরীকে ধর্ষ*ণের অভিযোগ

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে (১২) একাধিকবার ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় এখনো কোনো বিচার পায়নি ভুক্তভোগী পরিবার। গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী কিশোরী মোসাম্মৎ আফরিনা আক্তার টুনি সম্পূর্ণ সজ্ঞানে লিখিতভাবে এই জঘন্য অপরাধের জবানবন্দি দিলেও, আজ ১৩ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে বিচারের আশায় প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে অসহায় পরিবারটি।

জবানবন্দি থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর মা ও ভাই জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের মেসে রান্নাবান্নার কাজ করার সুবাদে কিশোরীও সেখানে মাঝেমধ্যে যাতায়াত করত। তবে তদন্ত কেন্দ্রে নতুন আইসি খোরশেদ আলম যোগদানের পর থেকেই কিশোরীর ওপর তার কুদৃষ্টি পড়ে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, কিশোরী যখন স্কুলে বা বিকেলে দোকানে যেত, তখন আইসি খোরশেদ আলম তদন্ত কেন্দ্রের পাশের রাস্তার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে প্রায়ই বাসার ৩য় তলার ব্যালকনি থেকে ইশারায় ডাকতেন। প্রথম দিকে ভুক্তভোগী ভয়ে যেতে না চাইলে, পরবর্তীতে বাসার ঘর ঝাড়ু দেওয়া, কাপড় ধোয়া এবং বিছানা ঠিক করার অজুহাতে জোরপূর্বক ডেকে নেওয়া হতো।কিশোরীর দাবি, বাসায় ডেকে নিয়ে আইসি খোরশেদ আলম তাকে জোরপূর্বক জড়িয়ে ধরতেন এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ (শারীরিক মেলামেশা) করেন। কিশোরী এতে বাধা দিলে তাকে ও তার মাকে একেবারে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হতো। ধর্ষণের পর তাকে মুখ বন্ধ রাখার জন্য ৫০০ বা ১০০০ টাকা দিয়ে বিদায় করা হতো এবং “টাচ মোবাইল” কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হতো।

লোকলজ্জা ও সামাজিক মানসম্মানের ভয়ে ভুক্তভোগী কিশোরী প্রথমে বিষয়টি কাউকে জানায়নি।সর্বশেষ গত ০৫/০১/২০২৬ ইং তারিখে বিকেলে কিশোরীর মা আইসির বাসার দরজার সামনে গিয়ে ভুক্তভোগীকে ডাকলে, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা তাকে ধমক দিয়ে বাথরুমে লুকিয়ে থাকতে বাধ্য করেন এবং তার মাকে মিথ্যা কথা বলে বিদায় করে দেন। পরবর্তীতে রাতে মা তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করলে কিশোরী সব সত্য ঘটনা খুলে বলে।

ভুক্তভোগী কিশোরী সম্পূর্ণ সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় এই অপরাধের বিবরণ দিয়ে জবানবন্দিতে স্বাক্ষর করার পর দীর্ঘ দুই মাস পার হলেও অপরাধী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি।

 

জনপ্রিয়

নোয়াখালীতে আ.লীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষ: গ্রেপ্তার ২৫, ওসি ক্লোজড নোয়াখালী প্রতিনিধি নোয়াখালীর সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগ-ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ফের ২৫ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৭ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়ালীর পুলিশ সুপার (এসপি) টি, এম, মোশাররফ হোসেন। এর আগে, শনিবার দিবাগত রাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে, সদর উপজেলার নোয়ান্নই ও কালাদরাপ ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে। তবে পুলিশ প্রশাসনের দাবি, এটি নিয়মিত প্রশাসনিক বদলির অংশ। একই আদেশে ফেনীর সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.কামরুল ইসলামকে সুধারাম মডেল থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সুধারাম থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শ্রীরাম ভট্টাচার্যকে হাতিয়া থানার ওসি (তদন্ত) হিসেবে এবং হাতিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইদ্রিসুর রহমানকে সুধারাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে বদলি করা হয়েছে। নোয়ালীর পুলিশ সুপার (এসপি) টি, এম, মোশাররফ হোসেন বলেন, সুধারাম মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে

চাটখিলে ডাব পাড়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে শিশুকে বলাৎকা

Noakhali edition

হাতিয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কিশোরীকে ধর্ষ*ণের অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ০৪:০৬:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে (১২) একাধিকবার ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় এখনো কোনো বিচার পায়নি ভুক্তভোগী পরিবার। গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী কিশোরী মোসাম্মৎ আফরিনা আক্তার টুনি সম্পূর্ণ সজ্ঞানে লিখিতভাবে এই জঘন্য অপরাধের জবানবন্দি দিলেও, আজ ১৩ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে বিচারের আশায় প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে অসহায় পরিবারটি।

জবানবন্দি থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর মা ও ভাই জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের মেসে রান্নাবান্নার কাজ করার সুবাদে কিশোরীও সেখানে মাঝেমধ্যে যাতায়াত করত। তবে তদন্ত কেন্দ্রে নতুন আইসি খোরশেদ আলম যোগদানের পর থেকেই কিশোরীর ওপর তার কুদৃষ্টি পড়ে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, কিশোরী যখন স্কুলে বা বিকেলে দোকানে যেত, তখন আইসি খোরশেদ আলম তদন্ত কেন্দ্রের পাশের রাস্তার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে প্রায়ই বাসার ৩য় তলার ব্যালকনি থেকে ইশারায় ডাকতেন। প্রথম দিকে ভুক্তভোগী ভয়ে যেতে না চাইলে, পরবর্তীতে বাসার ঘর ঝাড়ু দেওয়া, কাপড় ধোয়া এবং বিছানা ঠিক করার অজুহাতে জোরপূর্বক ডেকে নেওয়া হতো।কিশোরীর দাবি, বাসায় ডেকে নিয়ে আইসি খোরশেদ আলম তাকে জোরপূর্বক জড়িয়ে ধরতেন এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ (শারীরিক মেলামেশা) করেন। কিশোরী এতে বাধা দিলে তাকে ও তার মাকে একেবারে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হতো। ধর্ষণের পর তাকে মুখ বন্ধ রাখার জন্য ৫০০ বা ১০০০ টাকা দিয়ে বিদায় করা হতো এবং “টাচ মোবাইল” কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হতো।

লোকলজ্জা ও সামাজিক মানসম্মানের ভয়ে ভুক্তভোগী কিশোরী প্রথমে বিষয়টি কাউকে জানায়নি।সর্বশেষ গত ০৫/০১/২০২৬ ইং তারিখে বিকেলে কিশোরীর মা আইসির বাসার দরজার সামনে গিয়ে ভুক্তভোগীকে ডাকলে, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা তাকে ধমক দিয়ে বাথরুমে লুকিয়ে থাকতে বাধ্য করেন এবং তার মাকে মিথ্যা কথা বলে বিদায় করে দেন। পরবর্তীতে রাতে মা তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করলে কিশোরী সব সত্য ঘটনা খুলে বলে।

ভুক্তভোগী কিশোরী সম্পূর্ণ সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় এই অপরাধের বিবরণ দিয়ে জবানবন্দিতে স্বাক্ষর করার পর দীর্ঘ দুই মাস পার হলেও অপরাধী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি।